+8801533443118 Info@bestaidbd.com

সাধারণত প্রতি ২৮ দিনে নারীদের জরায়ুদ্বার দিয়ে সামান্য কালো লাল বর্ণের পাতলা স্রাব হয় ও ৩-৫ দিন স্থায়ী থাকে। কোন কারণে যদি এটি ২১ দিনের আগে বা ৩৫ দিনের পরে হয় তাকে অনিয়মিত ঋতুস্রাব বলে। অনিয়মিত ঋতুস্রাবের কারণ ও প্রতিকার সন্মন্ধে আসুন জেনে নিই।

অনিয়মিত ঋতুস্রাবের কারণঃ

অনিয়মিত ঋতুস্রাব সাধারণত যৌবনের শুরুতে এবং মেনোপজ শুরু হওয়ার আগে হতে পারে। মেয়েদের বয়স যখন ১২ থেকে ২০ বছর থাকে তখন যদি শরীরের ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন অপরিপক্ব থাকে তাহলে অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে। আবার নারী শরীরে যখন মেনোপজ বা স্বাভাবিক মাসিক বন্ধ হওয়ার আগে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতার জন্যও এই সমস্যা হতে পারে। অন্যান্য কারণগুলো হলো-

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে।
হঠাৎ জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ বন্ধ করে দিলে।
বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপে থাকলে ।
এনিমিয়া বা শরীরের রক্ত কমে গেলে।
শরীরের ওজন বেড়ে গেলে।
জরায়ুতে কোন প্রকার জটিলতা হলে।
সহবাসের সময় পুরুষের শরীর থেকে আসা অসুখের (গনোরিয়া, সিফিলিস) কারণে।
শরীরে টিউমার ও ক্যানসার জাতীয় অসুখ থাকলে।
প্রি মেনোপজের সময় হয়ে থাকে।
নারীদের অনিয়মিত ঋতুর লক্ষণসমূহ:

নারীদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব হলে বেশ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :

ঋতুস্রাব হঠাৎ বন্ধ হয়ে ২/৩ মাস, কখনো বা ৪/৫ মাস পর্যন্ত বন্ধ থেকে হঠাৎ অধিক পরিমানে স্রাব হয়। কোন কোন সময় অল্প অল্প স্রাব নিঃসরণ ১০/১৫ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
ঋতুস্রাব ১৫/২০ দিন বন্ধ থেকে ফোটা ফোটা ঋতু হতে থাকে। কখনো তা ঠিকমতো চলে আবার হঠাৎ গোলমাল দেখা দিতে পারে।
রোগীর তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করতে পারে। রক্তস্রাব কখনো কালচে বর্ণের হতে থাকে বা রক্তে ছোট ছোট কালো টুকরা দেখা দিতে পারে।
ঋতুস্রাব কালে বা পূর্বে গলায় ও স্তনে বেদনা অনুভুত হতে পারে।
অনিয়মিত ঋতুস্রাবের রোগীদের অন্যান্য আরও কিছু লক্ষণ যেমন – তলপেটে খিল ধরার মত ব্যথা, প্রসব বেদনার মত ব্যথা, বার বার মল ত্যাগের প্রবৃত্তি, কোষ্ঠকাঠিন্যের ভাব ইত্যাদি হতে পারে।
ঋতুস্রাব আরম্ভ হলে প্রচন্ড বমি এবং বমি বমি ভাব, আবার কখনো বা ঋতুস্রাব আরম্ভ হলে সব যন্ত্রণার অবসান হয়। সামান্য বিরতিতে চাপ চাপ রক্তস্রাব হয়, রোগী মনে করে উদরের মধ্যে সজীব কোন পদার্থ নাড়াচাড়া করছে।
অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা থেকে বেঁচে থাকতে যা যা করতে হবে :

নিজেকে ঠান্ডা স্থানে রাখা সহ প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
বিবাহিতদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ বন্ধ করা যাবেনা। কেননা এই সময়ে গর্ভধারণের ঝুঁকি থাকে। যদি কেউ জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি সেবন করেন তাহলে ঋতুস্রাব বন্ধ হবার পরও তা চালিয়ে যেতে হবে।
শারীরিক এবং মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলতে হবে।
নিয়মিত শরীর চর্চা, সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
ক্যাফেইন জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।
ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করে এরকম ওষুধ নিয়মিত সেবন করতে হবে।
রোগীকে সম্পূর্ণরূপে বিশ্রামে থাকতে হবে।
রোগীকে মানসিকভাবে আস্বস্ত থাকতে হবে।
আয়রন জাতীয় খাবার খেতে হবে যাতে শরীরে পরিমিত পরিমাণে রক্ত থাকে।
রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে রক্ত গ্রহণ করতে হবে।
পুষ্টিকর খাবার খাওয়া সহ ও নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করতে হবে।


অনিয়মিত মাসিকের সময় তলপেট, কোমর, উরু, পিঠে অনেক ব্যথা অনুভূত হয়। মাঝে মাঝে এই ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তাই এই ধরনের লক্ষণগুলো উপেক্ষা না করে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া খুবই জরুরী।